দেশের তৈরি পোশাক খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপ তাদের ১৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক। গাজীপুরের মামুননগর এলাকায় কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকসহ স্থানীয় অর্থনীতিতে নেমে এসেছে সংকটের কালো ছায়া।


মামুননগরটেকের বাসিন্দা মালা রানী, স্বামীহারা এই নারী দুই সন্তান নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। বেক্সিমকোতে কাজ করতেন তিনি। এখন আয় বন্ধ হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে তার টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। মেয়ে চকোলেটের বায়না ধরে খেলতে চলে গেলে, মালা আর অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।

বেক্সিমকোর কারখানা বন্ধের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় দোকানপাট, বাড়িওয়ালা, এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর। অনেক মেস ফাঁকা, বাড়িওয়ালারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। দোকানিরা তাদের বাকি টাকা তুলতে পারছেন না। শিঙাড়া বিক্রেতা ওমর ফারুক বলেন, “মানুষ চলে গেছে, বেচাবিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চালানোই দায়।”

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরা বলছেন, তারা কারখানাগুলোকে নিজের পরিবার মনে করে কাজ করেছেন। অথচ এখন তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের পাওনাও মেলে না। নাজমুল নামের এক শ্রমিক বলেন, “প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পেলেও গ্রামে গিয়ে কিছু করার চেষ্টা করতে পারতাম।”

বেক্সিমকোর অর্থ ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী জানিয়েছেন, কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে না পারায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “কারখানাগুলো বন্ধ না করে প্রশাসক বসিয়ে বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় চালু রাখতে হবে। যদি বন্ধ করতেই হয়, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ব্যবসাকে রাজনীতির বাইরে রাখা।”

বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে শাইনপুকুর গার্মেন্টস, আরবান ফ্যাশনস, ইয়েলো অ্যাপারেলস, বেক্সিমকো ফ্যাশনস, এবং ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলসসহ মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠান।

বেক্সিমকোর কারখানা বন্ধের কারণে শ্রমিক এবং স্থানীয় মানুষজনের জীবনযাত্রায় অভাবনীয় সংকট তৈরি হয়েছে। সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে এই সংকট আরও তীব্র হবে।